তিন দিন অনলাইন ক্লাসে কতটা কমবে জ্বালানি খরচ?
দেশজুড়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সীমিত সময়ের জন্য অনলাইন ক্লাস চালুর সিদ্ধান্ত এলে এর প্রভাব শুধু শিক্ষা ব্যবস্থাতেই নয়, জ্বালানি খরচেও পড়তে পারে—এমনটাই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তিন দিনের অনলাইন ক্লাসে কতটা ডিজেল সাশ্রয় সম্ভব, তা নিয়ে শুরু হয়েছে আলোচনা।
বাংলাদেশে প্রতিদিন লক্ষাধিক শিক্ষার্থী স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে যাতায়াত করে। এসব যাতায়াতে ব্যবহৃত হয় বাস, মাইক্রোবাস, মোটরসাইকেলসহ নানা ধরনের যানবাহন, যেগুলোর বড় একটি অংশ চলে ডিজেলে। ফলে স্বল্প সময়ের জন্য হলেও অনলাইন ক্লাস চালু থাকলে যানবাহনের চলাচল কমে যায়, যার সরাসরি প্রভাব পড়ে জ্বালানি ব্যবহারে।
পরিবহন বিশেষজ্ঞদের ধারণা, যদি তিন দিন সশরীরে ক্লাস বন্ধ থাকে, তাহলে শহর ও আশপাশের এলাকায় প্রতিদিন হাজার হাজার লিটার ডিজেল সাশ্রয় হতে পারে। বিশেষ করে স্কুলবাস ও গণপরিবহনের চাপ কমে যাওয়ায় এই সাশ্রয়ের পরিমাণ আরও বাড়তে পারে।
এছাড়া যানজট কমার ফলে সড়কে অতিরিক্ত জ্বালানি অপচয়ও হ্রাস পায়। স্বাভাবিক সময়ে দীর্ঘ যানজটে দাঁড়িয়ে থাকা গাড়িগুলো বিপুল পরিমাণ ডিজেল খরচ করে, যা অনলাইন ক্লাসের সময় তুলনামূলকভাবে কমে আসে।
তবে বিশেষজ্ঞরা এটাও বলছেন, অনলাইন ক্লাসের জন্য বিদ্যুৎ ও ইন্টারনেট ব্যবহারের পরিমাণ বেড়ে যায়, যা একটি বিকল্প খরচ তৈরি করে। তবুও সামগ্রিকভাবে পরিবহন খাতে জ্বালানি সাশ্রয়ই বেশি গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব হিসেবে দেখা যায়।
সব মিলিয়ে, অল্প সময়ের জন্য অনলাইন ক্লাস চালু থাকলে তা শুধু শিক্ষার্থীদের সুবিধাই নয়, জ্বালানি সাশ্রয় ও পরিবেশ রক্ষায়ও ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

